বেনাপোল থেকে এনামুল হকঃ
দেশের বৃহত্তম বেনাপোল স্থলবন্দরে চাকরি রক্ষার শর্তে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে নবনিযুক্ত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আল-আরাফাত সার্ভিস (প্রা.) লিমিটেড-এর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বন্দরে নিয়োজিত ১২৯ জন নিরাপত্তা কর্মী লিখিত অভিযোগে এ দাবি করেছেন।
বেনাপোল বন্দর পরিচালকের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের আগের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান পিমা সার্ভিস-এর কার্যকাল শেষ হওয়ায় নতুনভাবে দায়িত্ব পেয়েছে আল-আরাফাত সার্ভিস। প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন ম্যানেজার মো. শামীম শিকদার জানিয়ে দেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে তারা কার্যক্রম শুরু করবেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শামীম শিকদার প্রত্যেক কর্মীর কাছ থেকে চাকরি চালু রাখার শর্তে ৩০ হাজার টাকা করে ঘুষ দাবি করেন। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য ঘুষের অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। টাকা না দিলে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি কর্মীদের।
ভুক্তভোগীরা বলেন, “আমরা সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। অল্প বেতনের এই চাকরিতে ঘুষ দিয়ে টিকে থাকা সম্ভব নয়। নিয়োগ চুক্তিপত্রে কোথাও অর্থ লেনদেনের শর্ত নেই।
তারা আরও বলেন, “চাকরির নামে ঘুষ আদায়ের এ চেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চাই।”
এ বিষয়ে আগের নিয়োগ প্রতিষ্ঠান পিমা সার্ভিস-এর সিএসও আল-আমিন হোসেন বলেন, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এসব কর্মী দীর্ঘদিন ধরে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। যাতে তারা চাকরি হারিয়ে বেকার না হন, সে জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ প্রসঙ্গে আল-আরাফাত সার্ভিস বা অভিযুক্ত অপারেশন ম্যানেজার শামীম শিকদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।